Home » সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস আজ

সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কর্তৃক Md. Sohel Rana
511 ভিউস

কিছু স্মৃতি কিছু কথা-

৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সুনামগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়েছিল। সুনামগঞ্জ তথা দেশ বাসির জন্য দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন।

এ নিয়ে আমার কিছু স্মৃতি কিছু কথা-

তখন ছিল অগ্রাহায়ণ মাস, আমন ফসল কাটা মারার ধুম পড়েছে। ঐদিন ভোরে বাড়ীর পাশে, মারাখলায় মা বাবার সাথে আমিও গিয়েছিলাম। ধান মাড়াতে গরুর পিছে পিছে ঘুরতে শুরু করলাম। কেবল সূর্য পূর্ব দিগন্তে উঁকি মেরেছে, হঠাৎ শুনা গেল ঠাস ঠাস গুলির শব্দ। বেশ একটু দূরেই মনে হলো বাণীপুর জয় নগর বাজারের কাছা কাছি নদী পথে। আমাদের গ্রাম রহমতপুর, পার্শ্ববর্তী গ্রাম মোড়ারবন্ধ, রাসনগর, নৌকাখালী, সুরমা নদীর ওপারে মোহনপুর। গ্রামগুলো মনে হলো প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের আওয়াজে, সব জ্বালিয়ে পুরিয়ে ছারক্ষার করে দিচ্ছে। ক্রমশ নদী পথে লঞ্চ যোগে যখনি আমাদের গ্রামের পাশে এসে গুলিবর্ষণ, শুরু করলো, বুঝা গেল এ যেন ভয়াবহ যুদ্ধের মাঠে পরিণত হয়েছিল। রাইফেল বন্দুকের গুলির ঠুসা এসে পড়তে থাকলো আমাদের মারাখলা ও পার্শবর্তী খোলাগুলোতে। তখন কে কার পানে চায় সবাই ভয়ে কম্পমান। যার যার ভাবে মারার গরু ছেড়ে দিয়ে লুকাতে শুরু করে। এ সময় মা আমাকে খরের তোবার নীচে লুকিয়ে আল্লাহর নাম জপতে শুরু করেন। বাবা মাও খড়ের পাশেই গা ঢাকা দিলেন। আমি ছোট বেলা থেকেই একটু বেশি কৌতুহলী ছিলাম। মাঝে মাঝে খড় সড়িয়ে মাথা বের করে দেখার জন্য উকি দিতাম, তখন মা দু’হাতে মাথা চেপে ধরে বলতেন খবরদার মাথা বের করনা গুলি এসে পড়বে। হায়রে মা জননী। চলছিল তূমূল গুলি বর্ষণ আর এটাই ছিল সুনামগঞ্জে মুক্তি যুদ্ধের শেষ দামামা। আনুমানিক ১০/১৫ মিনিট পরে বুঝা গেল আমাদের গ্রামের সীমানা পেরিয়ে উজান রাম নগর, নদীর ও পাড়ে পৈন্দা পেরিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবেই গুলি করতে করতে হবতপুর গোদারা ঘাটে লঞ্চ ভিড়িয়ে তড়িঘড়ি করে লফিয়ে লাফিয়ে নেমে কাঁচা সড়ক পথে দৌড়ায়ে কুকুরের মত লেজ গুটিয়ে ওয়েজ খালী পয়েন্ট থেকে গাড়ী যোগে পালিয়ে গেল। ওরা ছিল জামালগঞ্জ, সাচনা বাজার ক্যাম্পে অবস্থান নেয়া পান্জাবী ও ম্যালেশিয়া বাহিনী । সাচনা বাজার থেকে লঞ্চ নিয়ে পালিয়েছিল। তবে ঐ দিন জন মানুষের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই। কারণ ওরা সেদিন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জানের ভয়ে উপর দিকে ফাঁকা গুলি করে পালিয়েছিল। ঐ দিন ৬ই ডিসেন্বর বাতাসের বেগে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো পাক হানাদার বাহিনী সুনামগঞ্জ ছেড়ে পালিয়েছে। সংবাদ পেয়েই জয়বাংলা স্লোগানে এলাকাবাসি ছুটে এলাম সুনামগঞ্জ মহুকুমা সদরে। গোটা সুনামগঞ্জের মানুষ চতুর্দিক থেকে আসা শুরু করেছিল। সুরমা নদীর ওপার থেকে হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা ও আমাদের বীর মুক্তি যোদ্ধারা এসেছিল জয় বাংলা ধ্বনি উচ্চারণ করে। সে দিনটি ছিল সুনামগঞ্জ বাসির সবচেয়ে বেশি উল্লাসের দিন, স্লোগানে স্লোগানে মূখরিত ছিল সারা সুনামগঞ্জ। স্মৃতি বিজরিত সেই ঐতিহাসিক ৬ই ডিসেম্বর আজও মনে পড়ে। হৃদয়ের মনিকোঠায় রয়েছে স্মৃতির মিনারে।

লেখকঃ আলহাজ্ব শেখ এমএ ওয়ারিশ, সুনামগঞ্জ,  কবি ও গীতিকার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

মেহেরপুর কাথুলী রোড walton শোরুমে, ওয়ালটনের সকল পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হয়। ওয়ালটন ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, সহ অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগের ঠিকানা, মেহেরপুর কাথুলি রোড, মোবাইল নাম্বার ০১৪০৩২৫৭৭৭০- ০১৩০৫৪২৪৬২০

০ মন্তব্য
0

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন