Home » ক্ষণিকের অতিথি //এম. সোহেল রানা

ক্ষণিকের অতিথি //এম. সোহেল রানা

কর্তৃক Md. Sohel Rana
75 ভিউস

ক্ষণিকের অতিথি (গল্প)

ক্ষণিকের অতিথি -এম.সোহেল রানা, মেহেরপুর।

প্রাইভেট ব্যাংকে চাকুরি করেন রাজু আহম্মেদ এবং তার স্ত্রী তাসমিনা আহম্মেদ চুমকি একটি প্রাইভেট মহিলা কলেজের অধ্যাপিকা। দু’জনে চাকুরি করে মাসে যা বেতন পায় তা দিয়ে তাদের সংসারের খরচ করে, বাড়িতে একটি কাজের মেয়ে আছে তাকে বেতন দিয়ে বিলাসীতার সাথে জীবন কাটায় সুন্দরভাবে দু’জনে। রাজু আহম্মেদ ও তাসমিনার দাম্পত্য জীবনে কখনো কোনো দুঃখ ও অশান্তি স্পর্শ করতে পারেনি। ওরা দু’জন শুধু সুখ আর সুখের মূহে জীবন কাটিয়ে আসছে হেঁসে খেলে। কিন্তু রাজু আহম্মেদ ও তাসমিনার দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় বা দু’জনে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয় আজ থেকে ১৫ (পনের) বছর আগে। দুঃখের কথা হলো- এখনো তাদের ঐ সুন্দর ও সুখের সংসারে একটা সন্তান জন্ম দিতে পারে নি। ডাক্তারি পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে দেখা গেছে তাসমিনা আক্তারের জীবনে আর কখনো সন্তান হবে না। এই হলো তাদের দুঃখের মূল কারণ।

একদিন রাতে, তখন বাজে রাত প্রায় ৯ (নয়)টা তাসমিনা চেয়ারে বসে পেপার পড়ছে আর বিরক্ত হচ্ছে কারণ- রাজু আহম্মেদ এখনো অফিস থেকে আসেনি হয়তো অফিসের কোনো কাজে আটকা পড়েছে। তাই তাসমিনার লক্ষ্য আছে বাহিরের দরজার দিকে। পেপার পড়ছে আর বার বার লক্ষ্য করছে বাহিরের দিকে রাজু আহম্মেদ আসছে কিনা। কিন্তু পেপার পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিশু সন্তানের কাঁন্নার আওয়াজ শুনতে পাই। আওয়াজটা ভেসে আসে বারান্দা থেকে কিন্তু অন্য বাসার ছেলে-মেয়ের কাঁন্না মনে করে পেপার পড়তে থাকে। কিন্তু আবার-ঐ কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে তাসমিনার কানে। পেপার পড়া বন্ধ করে আস্তে আস্তে বাহিরের দরজা খুলে উঁকি মেরে দেখে কোন পার্শ্বে কাঁন্নাকাটি করে। এমন সময় দেখতে পায় বাহিরের বারান্দায় একটা পুত্র সন্তান যার বয়স ২(দুই) বছর হতে পারে। হাতে একটা খেলনা নিয়ে খেলছে এবং মাঝে মাঝে কেঁদে উঠছে। তাসমিনা আস্তে আস্তে ছেলেটির দিকে এগিয়ে আসে এবং ছেলেটি দেখে তাসমিনা এতো আনন্দিত হয়েছে আবার অনুসূচনা করে।

-কে রেখে গেল এতো সুন্দর ছেলেটি আবার অনেক রাত হয়েছে।

(এ পার্শ্বে ও পার্শ্বে লোক দেখার চেষ্টা করে কিন্তু কোনো মানুষই নেই, ছেলেটির কাছে গিয়ে বসে বলে)

-তোমার নাম কি বাবু? তোমার মা-বাবা কোথায়? (ছেলেটি তাসমিনার দিকে ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে থাকে)

তাসমিনা কোলে তুলে নিয়ে আবার জিজ্ঞাসা করে।

-তোমাকে রেখে বাবা-মা কোথায় গেছে? (ছেলেটি ইচ্ছা মতো খেলতে থাকে) তাসমিনার কোনো কথা সে বুঝতে চায়না বা বুঝেনা। পুত্র সন্তানটা কোলে নিয়ে ভিতরে চলে আসে। বাহির দরজা মেরে দিয়ে ভিতরে এসে ছেলেটিকে সোহাগ করতে থাকে।

-কিছু খাবে বাবু! কিছু খাবে? তোমার তো খুব ক্ষুধা লেগেছে তুমি কি খাবে, বল কি খাবে? তাসমিনা একলা একলা অস্থির হয়ে পড়েছে। এমন সময় বাহিরের দরজায় কলিং অমনি তাসমিনা ভাবলো রাজু মনে হয় এবার এলো। তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুলে দেখে বাড়ির কাজের মেয়ে জাহানারা। তাসমিনার কোলে ছেলে দেখে জাহানারা সেতো অবাক- ও.. মা! বুবু এ ছেলে আপনে কোথায় পেলেন? (কোনো উত্তর না দিয়ে তাসমিনা)

-আগে ভিতরে আয় তারপর সব তোকে খুলে বলছি। আগে তুই বল এতো রাতে আবার এলি কেন?

-বুবু রান্না ঘরে আমার ছেলের জন্য যে দুধ রেখেছিলেম তা নিয়ে যেতে মনে নেই, তাই নিতে এলেম। তো বুবু এ ছেলে কোথ থেকে আনছেন? আপনের কোলে খুব সুন্দর মানাইতেছে। আল্লায় যদি আপনের কোলে এমন একটা সন্তান দিতেন, কেন যে তুইল্লা নিলেন আল্লায় জানে।

-ঐ সব কথা রাখতো আগে এর জন্য দুধ ও সুঁজি গরম করে নিয়ে আয় খাওয়াতে হবে খুব ক্ষুধা লেগেছে নয়লে যদি কাঁদতে লাগে তাহলে থামাতে পারবিনা, আগে যা জলদি কর। তারপর- সব তোকে বলছি।

-আচ্ছা বুবু আমি এখনি গরম করে আনতাছি। জাহানারা দুধ আর সুজি গরম করতে গেছে এদিকে তাসমিনা ছেলেটি নিয়ে সোহাগ করতে লাগলো। জাহানারা রান্না ঘরে গিয়ে দুধ সুজি গরম করে আর চিন্তা করে, মনে মনে বলে- বুবু এতো সুন্দর পুত্র/সন্তান কোথা থেকে আনলো?

বুবুর কোলে ছেলেটি এতো সুন্দর লাগতেছে মনে হইতেছে আজ বাড়িটা আলোয় ভরে আছে। বাড়ির যে সন্তানের শূন্যতা হয়চে, আজ আমারও আনন্দে মনটা ভয়রা উঠচে। আল্লায় মনে হয় বুবুর মুখের দিকে চাইছে। আল্লায় মনে হয় বুবুর মুখের দিকে চাইছে। (এ কথাগুলো ভাবতে ভাবতে দুধ গরম হয়ে গেছে একটি বাটিতে করে নিয়ে আসে জাহানারা) বুবু এই লন দুধ গরম কইরা আনছি। তাসমিনা ছেলেটি জাহানারার কোলে দিয়ে বলে দুধগুলো খাওয়ায়ে দে। জাহানারা ছেলেটি কোলে নিয়ে দুধ খাওয়াতে থাকে।

-বাবু তোমার খুব ক্ষিদে লাইগাছে, নাও দুধ খাইয়া লও, তাইলে ক্ষিদে ফুরাইয়া যাইব। (ছেলেটি হা করে আর চামুচে করে দুধ খাওয়াতে থাকে কাজের মেয়ে জাহানারা)।

-কিরে দুধ খাওয়াতে গিয়ে যে জামা-কাপড় সব ভিজে গেলে এখন শুকনো কাপড় পাবি কোথায়? ভিজে কাপড়ে রাখলে তো ঠান্ডা লাগবে।

-কি করুম বুবু দুধ যে খেতেই চাইছে না।

– না খাওয়ালে তো আবার জ্বর আসবে।

– ঠিক আছে বুবু আমি ভাল্লো কইরা গা-মুইছা দিব।

-তাই কর কালকে বাজারে গিয়ে সব জামা-কাপড় কিনে আনবো। জাহানারা আজ না হয় তুমি আমাদের বাসায় থাক আমার আবার কেমন কেমন মনে হচ্ছে এখন পর্যন্ত আবার রাজু আসলোনা। ওর আবার জুন-জুলাই মাস তো ব্যাংকে সব হিসাব-নিকাশ চলছে ও ফিরতে অনেক দেরি হবে আবার নাও আসতে পারে।

-বুবু এ ছেলের কথা তো আপনার সাথে শুনলাম আবার যদি ছেলের বাবা-মা চইলা আসে। বুবু আবার আমি থাকতে গেলে চলবো, আমার ছেলে আবার না খাইয়া বইসা থাকবো। ওর বাবা আবার খাইতে দিবো তো?

-জাহানারা। প্লিজ, এক রাতের মতো থাক তোমার ছেলেকে, ছেলের বাবা তো আছে ঠিক খেতে দিবে কোনো অসুবিধা হবে না। আমার তো বুঝতেই পারছো আমি কি অবস্থায় আছি। প্লিজ! জাহানারা আজকের মতো থেকে যাও। (তাসমিনার এতো অনুরোধের কারণে জাহানারা থেকে যায় কিন্তু জাহানারার রাতে ঘুম আসে না কারণ তার ছেলে খেয়েছে কি খায়নি তাই ভেবে)। তাসমিনারও রাতে ঘুম আসে না কি যেন অস্থিরতা বিরাজ করছে। ছেলেটি ঘুমিয়ে গেলে তাসমিনা খাটে বসে ভাবতে থাকে।

-কার এ ছেলে? বাবা-মাই বা কেমন যে, ছেলে সন্তান রেখে চলে যায়। কোনো খোঁজ-খবরও তো এখন পর্যন্ত এলোনা। এমন সময় কলিং বাজে তাসমিনা আৎকিয়ে ওঠে ওই মনে হয় ছেলেটির খোঁজ এলো। ছেলেটির প্রতি তাসমিনার এতো পরিমাণ ভালোবাসা জন্মিয়ে গেছে যে, ছেলেটিকে ছেঁড়ে দিতেও কষ্ট হয়। আস্তে আস্তে গিয়ে দরজাটা খুলে দেখে রাজু আহম্মেদ। তাসমিনা টানা নিঃশ্বাস ফেলে- তাসমিনার টানা নিঃশ্বাস ফেলার কারণে রাজু আহম্মেদ প্রশ্ন করে। কি ব্যাপার তাসমিনা টানা নিঃশ্বাস ফেলার কারণ কি? এর আগে’তো কখনো এমন দেখিনি?

-আগে ভিতরে চলো তারপর সব তোমাকে খুলে বলছি। (রাজু আহম্মেদ বেডে এসে দেখে একটা বাচ্চা ঘুমিয়ে আছে। তাসমিনাকে লক্ষ্য করে)

-তাসমিনা এ আবার কোথা থেকে আমদানি করলে? (তাসমিনা রাজু আহম্মেদকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন রাজু আহম্মেদ সব মেনে নিলেন)

-দেখ তাসমিনা এতো সুন্দর পুত্র সন্তান রেখে গেছে স্বাদ করে না। সে বাবা-মা হয়তো জানে কোনো বড়লোক বাড়ি রেখে গেলে ছেলেটি বড় হয়ে মাথা উঁচু করে বেড়াতে পারবে। অন্তত বাবা-মা বলে না ডাকলেও ছেলেটি চোখের সামনে দেখতে তো পাবে। যাদের সন্তান তারা আবার কখনো এসে দাবি করে বসবে না তো আমাদের সন্তান বলে? যাই হোক আমাদের কেনো সন্তানাদি নেই একটি সন্তানের খুব প্রয়োজন ছিল। খোদা তাই মিলিয়ে দিয়েছে। তার কাছে হাজার শুকরিয়া। তাসমিনা রাত অনেক হয়েছে এখন চলো ঘুমায় কালকে গিয়ে ছেলের খাবার পোষাক কিনে আনতে হবে। দু’জনে ঘুমিয়ে পড়ে।

তারপর…..প্রায় ৫ (পাঁচ) বছর পরের কথা- রাজু আহম্মেদ ও তাসমিনার সন্তান আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠে। সেই সন্তানের নাম রাখেন অনিক আহম্মেদ সোহাগ। সোহাগকে নাম করা ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি করে দেন। সোহাগ এখন ক্লাস টু এর ছাত্র, লেখা পড়াতেও খুব ভালো হয়েছে। আর লেখা পড়াতে খুব ভালো বলেই সকল ছাত্র/ছাত্রী শিক্ষকদের নিকট সোহাগ খুব আদর ও সোহাগের প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছে। সকলে সোহাগকে খুব ভালবাসে সকলের নিকট এতো বেশি প্রিয় হয়েছে যে, একদিন স্কুলে না গেলে মনে হয় সমস্ত স্কুল জুড়ে কিছু একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। আবার সোহাগ স্কুলে গেলে সমস্ত স্কুল জুড়ে ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষকদের মধ্যে আনন্দ কাঁনায় কাঁনায় ভরে ওঠে।

একদিন হঠাৎ স্কুলে সোহাগ অসুস্থ হয়ে পড়ে সাথে সাথে সোহাগের মায়ের কাছে ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয় এবং সমস্ত স্কুল প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী শিক্ষকরা অস্থির হয়ে পড়ে। সোহাগের কি হয়েছে- সোহাগের মা খুব দ্রুত এসে সোহাগকে কোলে তুলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে-

-বাবা…সোহাগ তোমার কি হয়েছে? শরীরের ভিতর কেমন করছে বাবা…।

(তাসমিনা অস্থির হয়ে পড়ে কিন্তু সোহাগ কোনো কথা বলতে পারে না। শিক্ষকরা শুধু তাসমিনাকে শান্তনা দেন)।

-আপা.. আপনি অস্থির হবেন না, চলেন ডাক্তারের নিকট নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসা দিলেয় আল্লাহর রহমতে সোহাগ খুব দ্রুতই সুস্থ্য হয়ে উঠবে। সোহাগের কিছু হয়নি, কিছু হতে পারেনা।

-তাই যেন হয়। (খুব দ্রুত সোহগকে ডাক্তার খানায় ভর্তি করিয়ে দেন, এরপর রাজু আহম্মেদ ফোন পেয়ে তড়িৎ গতিতে ডাক্তার খানায় পৌঁছে যায়)।

-তাসমিনা.. সোহাগের কি হয়েছে? কোথায় সোহাগ?

-পরীক্ষার জন্য ভিতরে নিয়ে গেছে।

-যত টাকা লাগে আমি দিব সোহাগকে সুস্থ্য করে তুলতেই হবে।

(সোহাগের কোন কিছু হতে পারে না। এভাবে বিভিন্ন কথা বলে আর অস্থির হয়ে পড়ে রাজু আহম্মেদ। ডাক্তার সাহেব তাকে শান্তনা দেন)।

-সোহাগের কোন কিছুই হবে না। একটু অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে ঔষধ খাওয়ালেই খুব দ্রুত সেরে উঠবে। আর রিপোর্টগুলো হাতে পেলেই সব কিছু জানা যাবে।

-তাই যেন হয় ডাক্তার সাহেব, তাই যেন হয়। এঙ কথা বলে রাজু আহমেদ।

সোহাগের কিছু হলে আমি তাসমিনাকে বাঁচাতে পারব না ডাক্তার সাহেব। যে ভাবে হোক যত টাকা লাগে আমি দিব। টাকার কোন চিন্তা করবেন না যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি আমার সোহাগকে সারিয়ে উঠার সকল ব্যবস্থা করুন।

-রিলাক্স রাজু সাহেব, সব ঠিক হয়ে যাবে। কোন চিন্তা করবেন না। (ডাক্তার সাহেব এভাবে শান্তনা দেন রাজু আহামোদ ও তাসমিনাকে)

দু’দিন পর সোহাগের সমস্ত রিপোর্ট গুলো ডাক্তারের হাতে পৌঁছে গেছে। কিন্তু রির্পোটগুলো পেয়ে ডাক্তার দেখে হতভম্ব হয়ে যায়। এটা কি ভাবে সম্ভব? আমি রাজু আহম্মেদ কে কি ভাবে বুঝিয়ে বলব যে, সোহগের এতো বড় রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সমস্ত ডাক্তাররা বোর্ড মিটিং করে আবার সিদ্ধান্ত নেন সোহাগের আবার পরীক্ষা করার জন্য কারণ- রিপোর্টে তো ভুল হতেও পারে। তাই রাজু আহম্মেদকে জানিয়ে পূণরায় সকল পরীক্ষা গুলো করানো হয়। কিন্তু নিয়তির একি পরিহাস রিপোর্টগুলোতে ঐ একই রিপোর্ট আসে। সকল ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন। সোহাগের দু’টি কিডনিই ডেমেজ হয়ে গেছে এটা শুধু মাত্র রাজু আহম্মেদকে জানাতে হবে। এবং কেউ যদি একটা কিডনি ডোনেট করে তাহলে সোহাগের একটি কিডনি অস্ত্রপচার করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব।

এদিকে রাজু আহম্মেদ ও তাসমিনা সোহাগকে নিয়ে খুব চিন্তিত তাসমিনা সব সময় সোহাগের কাছে থাকেন। এক সপ্তাহ পরে সোহাগ কথা বলে তাসমিনার সাথে। ঐ দিন থেকে অর্থাৎ শুরু থেকে কোনো কথা শুনতে পাওয়া যায়নি সোহাগের হঠাৎ কথা বলায় তাসমিনার খুব আনন্দ ও মনে আস্থা এসেছে সোহাগকে এবার হয়তো সারিয়ে ওঠাতে পারবো এর মধ্যে সোহাগ তাসমিনাকে প্রশ্ন করে-

-আম্মা.. আমি এখানে কেন? আমাকে স্কুলে যেতে হবেনা? আমার কি হয়েছে। (তাসমিনার চোখে ছলোছলো পানি)

-বাবা.. তোমার কিচ্ছু হয়নি, তুমি স্কুলে যাবে, অবশ্যই স্কুলে যাবে।

-আম্মা.. তোমার চোখে পানি কেন? (তাসমিনা আচল দিয়ে চোখ মুছে)।

-কই..নাতো চোখে পানি নেইতো মনে হয় চোখে কিছু পড়েছে।

-আম্মা.. আমরা তো এ ধরনীর বুকে ক্ষণিকের অতিথি, তাই না আম্মা? আমরা তো কিছু দিনের জন্য পৃথিবীর বুকে ভ্রমণ করতে এসেছি কি বলো আম্মা? (সোহাগের কথা শুনে তাসমিনা আর বুকে চাঁপা কাঁন্না ঠেকাতে পারলোনা সোহাগকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কেঁদে ফেলে)

-বাবা..তোমার কিচ্ছু হতে দেব না, যত টাকা লাগে দরকার হয় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে ভালো করে আনবো। তোমার কিচ্ছু হয়নি…বাবা.. তোমার কিচ্ছু হয়নি। (বলে আর তাসমিনা কাঁদতে থাকে)।

-আম্মা আমার ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যদি আমাকে ডেকে বসে তাহলে যে আমি থাকতে পারব না আম্মা..। আমাকে যে যেতেই হবে, আম্মা.. পৃথিবীতে আসা আর যাওয়ার মাঝখানে সেতো অনেক মায়া ভরা ক্ষণ, এ মায়াবী ধরনী ছেড়ে যেতে যে আমার মন চায়না।

তাসমিনা আর কোনো কথা বলতে পারছে না সোহাগের এ কথাগুলো শুনে অবাক আর ভিতরে অনেক ভাবনার জাল বিছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলছে মনে হচ্ছে পৃথিবীর যত জ্ঞান সোহাগের মধ্যে নিহিত। এর মধ্যে রাজু আহম্মেদ এসে উপস্থিত, ডাক্তারের সাথে সমস্ত ঘটনা শুনে রাজু আহম্মেদ আর ঠিক থাকতে পারছে না। আবার সোহাগের এ সমস্ত নীতি কথা শুনে রাজু আহম্মেদের আর বুঝতে বাকি রইল না যে, সোহাগ পৃথিবীর পরে ক্ষণিকের অতিথি।

কিন্তু, আমাদের মায়া জালে জড়িয়ে শত কষ্টের পাহাড় বুকে চাঁপা দিয়ে আমাদের ছেড়ে ধরনীর বুক চিরে চিরতরে চলে যায় সোহাগ না ফেরার দেশে। রাজু আহম্মেদ ও তাসমিনার চাঁদের হাট সংসারে শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষণিকের অতিথির সেই শেষ বাক্যটি বার বার হৃদয়ে নাড়া দিয়ে যায় খুব বেশি।

মায়া ভরা মুখে বলেছিল করুণ স্বরে- আম্মা.. আমার ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যদি আমাকে ডেকে বসে তাহলে যে আমি থাকতে পারব না আম্মা..। আমাকে যে যেতেই হবে, আম্মা.. পৃথিবীতে আসা আর যাওয়ার মাঝখানে সেতো অনেক মায়া ভরা ক্ষণ, এ মায়াবী ধরনী ছেড়ে যেতে যে আমার মন চায়না। এ ভাষাগুলোই সোহাগের জীবনে শেষ বাণী উচ্চারিত হয়েছিল।

রচনাকাল-২৫ডিসেম্বর-২০০৭ইং/ মেহেরপুর।

মেহেরপুর কাথুলী রোড walton শোরুমে, ওয়ালটনের সকল পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হয়। ওয়ালটন ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, সহ অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগের ঠিকানা, মেহেরপুর কাথুলি রোড, মোবাইল নাম্বার ০১৪০৩২৫৭৭৭০- ০১৩০৫৪২৪৬২০

০ মন্তব্য
0

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন