Home » ঘুণেধরা সমাজের হালচাল অতঃপর প্রসঙ্গকথা-

ঘুণেধরা সমাজের হালচাল অতঃপর প্রসঙ্গকথা-

কর্তৃক Md. Sohel Rana
113 ভিউস

ঘুণেধরা সমাজের হালচাল অতঃপর প্রসঙ্গকথা-

-এম.সোহেল রানা, মেহেরপুর।

আজ আমাদের ঘুণেধরা সমাজ ভেঙে পড়ার পেছনে বহু ঘটনা রয়েছে। এমন ন্যাক্কার জনক কাজ চোখের সামনে নাকের ডগায় বসে কত ঘটনাই না ঘটে যাচ্ছে এ সমাজের বুকে, মনে হচ্ছে সমাজে বসবাসরত মানুষগুলো যেন নির্বিকার বাকরুদ্ধ অসহায়, দেখেও দেখতে পাইনা শুনেও শুনতে চাইনা। ঘুনেধরা ভেঙ্গেপড়া সমাজের এমন হালচালের কারণ অনেকে মনেকরে- সমাজপতি মন্ডল, মালিথা, মাতব্বরদের বিচারকার্যে ছিল স্বজনপ্রীতি ক্ষমতার অপব্যবহার। সেকালে জমিদার, গেরোস্ত, ধনী শ্রেণির লোকদের কর্তৃক গরিব দিনমজুরী শ্রেণির লোকেরা ছিল শোষিত নিপীড়িত নির্যাতিত। এমনও হয়েছে গরীবদের সন্তানেরা গেরোস্তদের বাড়িতে পেটভাতা রাখাল খেটেছে দিনের পর দিন। এক কাঁঠালের বিনিময়ে ৩/৭ দিন কামলা দিতে হয়েছে গরিব শ্রণির লোকদের। সন্তাদের বড় করার জন্য দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জুটাতে গেরস্তোদের সাথে এক কাঠা ধান ধার আনলে সুদসহ দুই কাঠা ধান ফেরৎ দিতে হয়েছে। তখনকার সমাজের মহাজন বা সুদখোরদের ধান-গম পরিমাপের জন্য ধার দেয়া-নেয়া দুই ধরণের বেতের শের/কাঠা থাকতো। ধার প্রদান বেতের শের/কাঠা, ধার পরিশোধের অর্থাৎ ধার-গম ফেরৎ নেওয়ার বেতের শের/কাঠা। এই ভাবে ধার দেনা পরিশোধ করতে হতো নুন আনতে পানতা ফুরোনো খেটে খাওয়া দিনমজুর গরিব লোকদেরকে। ভূমি দস্যু মহজন/সুদখোর যা বলতো তাই মুখবুঝে মেনে নিতে হত গরিবদেরকে। তখনকার গরিব নির্যাতিত, ভূমি দস্যু, সুদখোর, গেরস্ত তাদের উত্তস্বরি সন্তানেরা আজ বেশির ভাগ তাদের সন্তানদের কাছে অবহেলিত। অনেক জায়গা-জমি সম্পদ থাকলেও ক্ষুধার তাড়নায় কাতরায়। অনেকের কঠিন রোগ-শোকে মৃত্যুও হয়েছে অযত্নে অবহেলায়। এক সময় সমাজপতিরা মনে করতো বিচার কার্য আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির মত কোনদিন আমাদের হাতছাড়া হবেনা। সমাজে আমরা যে রায় দিব সেটাই বলবৎ থাকবে। ক্ষমতাযে চিরস্থায়ী না এটা তারা বিশ্বাস করতোনা। সমাজে দূর্বল শ্রেণির লোকদের দিকে চেপে বিচারকার্য পরিচালিত হতো, আগে হতেই দূর্বল শ্রেণির লোকেরা সঠিক সুন্দর বিচার পেতনা সমাজে অসাধু বিচারকদের কারণে। কিন্তু তাঁরা মনে মনে সৃষ্টি কর্তার নিকট বিচার দিয়ে রাখত মনে বলে সেই গরিব দূর্বল শ্রেণির লোকেদের আকূতি মিনতি সৃষ্টিকর্তা শুনেছে। সেই বিচারের ফলস্বরূপ যার ফলে আজ সমাজের পাশকাটা বিচারকার্য ভেঙ্গে পড়েছে। সেই গেরোস্তদের বংশদ্ভুত অনুসারিরা এখনো সেই ভাবে দিন কায়েম করতে চাই। কিন্তু না এখন মানুষ বুঝতে শিখেছে তাদের দিন শেষ এখন তাদের প্রাপ্তির বেলা। বর্তমানে সমাজে কোন বিচার বসেনা, বেশির ভাগ সমাজে আর বিচার নেই , সমাজে কেউ কারো কথা মানে না, মানতে চাইনা। ভেঙ্গেছে সমাজ, হারিয়েছে বড়দের সম্মান, ফুরিয়েছে ছোটদের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা। এখন যে যার মত করে চলে নিজ স্বাধীন, কেহ কারো নিকট জবাব দিহিতা নেই। স্ত্রী নেই তার স্বামীর, সন্তান নেই তার বাবা মায়ের। ভাই শোনেনা তাঁর ভাইয়ের কথা। যে যার মতো করে চলছে। যার ফলে গ্রাম্য ঘুণেধরা সমাজের এই অধঃপতন। আবার এটা শেষ জামানার কিছু লক্ষ্যণ বলে অনেকে অনুমান করছে। আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখা উচিৎ আগামী প্রজন্মের জন্য নিজেকে ছাড় দেওয়া। ভবিষ্যৎ প্রজন্মেকে সাথে নিয়ে নিজের স্থান ছেড়ে তাদের স্থান বুঝিয়ে দেওয়া। নিজেদের অস্তিত্ত টিকিয়ে রাখতে সু-দীর্ঘ পরিকল্পনা ভিত্তিক কাজের ভিত্তিটা আরো শক্ত, পক্ত ও মজবুত করে গড়ে রেখে যাওয়া। তবেই তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদেরকে জানতে চাইবে, বুঝতে চাইবে। দুঃখের বিষয় যে, সে দিক থেকে আমরা না ছোড় বান্দা। প্রাণ গেলেও নিজের স্থান ছাড়তে রাজি নয়।

আমাদের এই ঘুণেধরা সমাজে এমন না বলা কত ঘটনাই না ঘটে যাচ্ছে- আবার না বললেই নয়। নারীই নারীদের বড় শত্রু হয়ে আছে। কত “বউ” শ্বশুর-শ্বাশড়ী ও ননদের নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে। স্বামী থেকেও তার প্রতিবাদ করতে পারে না। সে কোন স্বামী যে তার বাবা-মা, ভাই-বোন আর বউয়ের মধ্যে সঠিক দোষগুণ খুঁজে বিচার করতে জানেনা? সেই স্বামী কি অন্য বাবা-মায়ের প্রিয় সন্তান মেয়েটিকে বিয়ে করে এনে তার প্রতি স্বামীর অধিকার দিতে কতটুকু সক্ষম হলো? না শুধু বিয়ে করে ফরজ আদায় করলো? এ আবার কেমন ফরজ? কি ধরনের ফরজ আমার মাথায় ধরে না। একটি মেয়েকে বিয়ে করে দায়িত্ব নিলে কিন্তু সেই মেয়েটি কি তোমার বাবা-মায়ের ও ননদের নির্যাতনের বলি হতে হবে? এ কেমন বিচার। এ বিচারটা না হয় শ্বশুর-শ্বাশুড়ী ও ননদিনির উপরেই ছেড়ে দিলাম। আবার এমন বউ সমাজে দেখি তার স্বামী, শ্বশুর- শ্বাশুড়ির কথাও মানেনা নিজের মত করে চলছে। তোমাদের মনোভাব পরিবর্তন কর, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাও।

বর্তমান আধুনিক সমাজে যেটা বেশী লক্ষ্যনীয়- বেহায়াপনা প্রেম-পিরিতি সংঘটিত ঘটনা! প্রেম ভালোবাসার টানে তিলে তিলে দীর্ঘ দিনের গড়া সংসার ভেঙ্গে স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন স্বামী সন্তান ছেড়ে অন্যের সাথে চলে যাওয়া, ঘরে স্ত্রী সন্তান রেখে অন্য নারীকে বিয়ে করা। কত নাবালক বালিকা জন্মদাতা বাবা মায়ের সাথে রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে অন্য ছেলে/মেয়ের হাত ধরে পাড়ি জমানো ইত্যাদি। কোথায় সেই নৈতিকতা মানবতা আর মান সম্মান এ সম্পর্কে একটু বলতে চাই। প্রেম-ভালোবাসার সূচনা কোথা থেকে, সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক সকল সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই পবিত্র প্রেমের সৃষ্টি। কিন্তু সেই প্রেমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি ছিল? আর আমাদের প্রেমের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্যটা আসলে কি? আকাশ-জমিন পার্থক্য। আমাদের প্রেমের লক্ষ্য কি জন্মদাতা বাবা মায়ের কথা অবাধ্য হয়ে তাদেরকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে নিজের সুখের জন্য অন্যের হাত ধরে চলে যাওয়া? নিশ্চয় তা নয়, সন্তানের জন্য কি বাবা মা সুখ ও সাফল্য চাইনা? আমার জানা মতে, প্রকৃত পক্ষে জন্মদাতা জন্মদাত্রী পিতা মাতায় জগতে একমাত্র দু’জন ব্যক্তি নিঃস্বার্থে সন্তানের জন্য সুখ ও সাফল্য চেয়ে থাকে। কত শত সহস্র দুঃখ যাতনার পরও। তাহলে কেন বাবা মাকে দুঃখ দিব তাদের কথার অবাধ্য হবো? জগতের সকল সন্তানদের গভীর ভাবে দিব্যজ্ঞানে বুঝার চেষ্টা করা উচিৎ। বাবা-মা সন্তানের জন্য কত আশীর্বাদ। তবে একটু খেয়াল রাখতে হবে কথায় আছে “জন্মদাতা জন্মদাত্রী হওয়া সহজ কিন্তু প্রকৃত পিতা ও মাতা হওয়া কঠিণ”।

আজ উন্নত প্রযুক্তির বিশ্বে এখন উন্নয়ন ও উন্নতির মহাসড়কের বাহিরে নয় বাংলাদেশ। তাই আমাদের সন্তানেরাও আজ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও বলতে শিখেছে। চলতে ও বলতে শিখেছে বলেই কোন বয়স সীমা বাঁধা অপেক্ষা করেই সকল বয়সের ছাত্র/ছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ আজ এন্ড্রোয়েড মোবাইল সেট ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। এ প্রযুক্তি আমাদের জন্য যেমন আশীর্বাদ স্বরূপ তেমন ধ্বংশেরও কারণ। এ প্রযুক্তি আমরা আমাদের সন্তানেরা কি ভাবে গ্রহণ ও তার ব্যবহার করবে। এখন আমাদেরকে ভেবে চিন্তে জানতে ও মানতে হবে কোনটা আমরা গ্রহণ করবো বা পরিহার করবো। আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নিজের দেশ ও দশের জন্য তা কতটুকু মঙ্গল ব’য়ে আনবে।

আমাদের অতি আদরের সন্তানেরা শাসনের গোন্ডি পেরিয়ে মোবাইল সেট পেয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল নাম্বার ডায়াল করে বা ফেসবুকের মেসেন্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ স্কাইপ, টুইটারস, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে প্রেমের আলাপ-আলাপন শুরু করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় শিশু প্রেম। অনেক খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে ৭ম/১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল সেট তাঁরা নির্বিগ্নে ব্যবহার করছে। এমনকি বিদ্যালয় চলা কালিন ক্লাসেও মোবাইল সেট নিয়ে ক্লাস করে। শিক্ষকের কোন কথা শ্রবণ না করে গেমস বা ফেসবুক চালাচ্ছে। এগুলো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দেখেও না দেখার ভান করে কিছু বলেন না, কারণ সেই শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষকের নিকট টিউশনি করেন তাই। এমন খবরও পাওয়া যায় অনেক শিক্ষার্থীকে বলতে শুনেছি টিউশনে গিয়ে আমাদের স্যার বোর্ডে যে অঙ্ক তুলে দেন তা শিক্ষার্থীরা খাতায় না তুলে মোবাইল সেট দিয়ে ছবি তুলে রাখে পরে খাতায় তুলে নিবো এই বলে। এমন শিক্ষকও রয়েছে শিক্ষার্থীদের এমন কথাও মেনে নেন। কিন্তু কেন? এটা কতটুকু যৌক্তিক সবার নিকট আমার ছোট্ট একটা প্রশ্ন রেখে গেলাম?

তবে, আমি মনে করি এর জন্য দায়ী সর্বাগ্যে সকল অভিভাবক এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমন কি আমাদের সমাজে জনসচেতন মহলরাও এ অভিশাপ থেকে দূরে নয়। তাই আমাদের রাষ্ট্রিয় সংবিধান কর্তৃক বাল্য বিবাহ রোধ কল্পে বিবাহ আইনে বয়সের সীমা রেখার আইন পাশ করা হলেও, বাল্য কালীন মোবাইল ব্যবহারের কোন বয়সের সীমা রেখা নির্ধারণ করা হয় নাই। আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রে  সকল নাগরিক স্বাধীন ভাবেই চলাফেরা করছে। তাই আমার মনে হয় বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্র মোবাইল ব্যবহারের বয়স সীমা নির্ধারণ করে আইন পাশ করে সেটা বাস্তবাইনের জন্য অতিব জরুরী বলে আমি মনে করি।

আগের (পূর্বের) প্রেম-পিরিতির কথা বড়দের কাছ থেকে গল্প শুনেছি- আগেকার ছেলে মেয়েরা প্রেম করেছে চিঠি লিখে বা সরেজমিনে দেখা সাক্ষাৎ করে। তাই তাদের প্রেম ভালবাসার মধ্যে মাধুর্য্যপূর্ণ, গুরুগম্ভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হত। কিন্তু এখন বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে আজকের সন্তানেরা অযৌক্তিক ভাবে। যার জন্যে এখনকার প্রেম ভালোবাসায় কোন গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছেনা, বেশি দিন টেকশোয় ও কোন মান মর্যাদা থাকছেনা। যেমন সহজ ভাবে সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছে ঠিক তেমন সহজ ভাবেই ভেঙ্গে যাচ্ছে।

জ্ঞাণী-গুণী মনীষীরা বলে গেছে-“যে বস্তু পেতে সহজ তা হারাতেও সহজ আবার যে বস্তু পেতে কঠিণ তা হারাতেও কঠিণ”। আসল কথা হলো- “ছেলে মেয়ের মধ্যে স্বর্গীয় ভাব ভালবাসা সৃষ্টির তরে সুন্দর মুহুর্তের কোন এক মহেন্দ্র ক্ষণই যথেষ্ট “।

মেহেরপুর কাথুলী রোড walton শোরুমে, ওয়ালটনের সকল পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হয়। ওয়ালটন ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, সহ অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগের ঠিকানা, মেহেরপুর কাথুলি রোড, মোবাইল নাম্বার ০১৪০৩২৫৭৭৭০- ০১৩০৫৪২৪৬২০

০ মন্তব্য
0

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন