Home » আজ কলঙ্কিত মানুষই এ সমাজের অধিপতি

আজ কলঙ্কিত মানুষই এ সমাজের অধিপতি

কর্তৃক Md. Sohel Rana
105 ভিউস

আজ কলঙ্কিত মানুষই এ সমাজের অধিপতি

-এম.সোহেল রানা, মেহেরপুর।

মানুষ সামাজিক জীব। আমরা এই সমাজে সকলেই একে অপরের পরিপূরক হয়ে একসাথে বসবাস করে থাকি। মানুষের চিন্তা-চেতনা, বিবেক, জ্ঞান-বুদ্ধির ফলেই মানুষ একতাবদ্ধ, দলবদ্ধ, সমাজবদ্ধ। প্রাচীনতম সংগঠণ হলো সমাজ,  আর এ সমাজ বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত। তাই আমাদের চিন্তা ধারাটাও বহুরূপি ও এক-এক ধারার। এখনো আমাদের সমাজে সেই মানধাত্তা আমলের বস্তাপঁচা চিন্তা ভাবনা বিরাজমান রয়েছে। এটা আমাদের অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ-

অনেকেই না জেনে বুঝে আমাদের এ ঘুণেধরা সমাজে এখনো বলে থাকে “অমক” স্থানে “অমক” ছাড়া কেহ যোগ্য ব্যক্তি ছিল না আজও কেহ তার মত হতে পারে নি। এটা আমাদের ভুল ধারনা, কেহই করো মত হয় না, হয় একটু বেশি অথবা কম। এ ধরাতে কেহ যোগ্য হয়ে জন্ম নেন নাই, সেই স্থানে বা প্রতিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত হবার পর কর্মের মাধ্যমে তাকে তার যোগ্য স্থান গেড়ে নিতে হয়। আবার ঐ যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য বলে নির্ধারিত স্থান গেড়ে বসে থাকলেই হবে না, তাকে ভবিষৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে যোগ্য লোককে যথা স্থান ছেড়ে দিতে হবে। তবেই না সে যোগ্য ও বুদ্ধিমান। এভাবেই একদিন হয়তো চিরবিদায় নিবে অজ্ঞ, কলঙ্কিত, দূর্নীতিগ্রস্থ, কুলশিত, ঘুণেধরা, শোষিত সমাজ। আর জেগে উঠবে স্বপ্নের আলোয় হেসে স্থানপাবে নতুন প্রজন্মের নতুন নতুন ভাবনা, সৃষ্টি হবে নির্মল বাতাসে সমস্ত প্রাণের মেলা বসবাসযোগ্য দূর্নীতি মুক্ত সমাজ তথা বিশ্ব দরবারে উন্নত মম শির হয়ে সম্ভাবনাময় সমৃদ্ধির একটি দেশ হিসেবে ।

কলঙ্কিত, নিচুমনের মানুষই বর্তমান ঘুণেধরানো সমাজ সৃষ্টির পৃষ্ঠপোষক ও ধারক বাহক । বর্তমান সমাজে বেশিরভাগ মানুষ আজ আত্মকেন্দ্রিক, ঘুষ খোর, সুদ খোর, অসৎ ব্যবসায়ী, ঈর্ষা হিংসায় জর্জরিত, মানুষ বিপদে পতিত হলে তার দূর্বলতার সুযোগ খোঁজে, সমাজের বহু সুবিধাবাদী লোক কেহ কোন বিপদে পড়লে মিমাংসার নামে দালালি করে তাদের ফায়দা লুটে। আত্মকেন্দ্রিক বহু সুবিধাবাদী লোক তাদের বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়ে সমাজের বুকে গিরগিটির ন্যায় শরীরের রং পরিবর্তন করে অবস্থান করছে। বিশেষ ভাবে উল্লেখিত- (চিকিৎসাক্ষাতে) হাসপাতাল, ক্লিনিকে মানব সেবার নামে দালালি গ্রহণ করে। (জমি সংক্রান্ত) কোর্ট, কাচারি, থানা, আইন-আদালত, বিভিন্ন সামাজিক বিচারিক কার্যে দূর্বল লোকদের পক্ষে সঠিক বিচার না করে তাদের দূর্বলের সুযোগ নিয়ে দালালি করে থাকে। এমন নিকৃষ্টতম কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে কিঞ্চিত পরিমান দিধাবোধ করে না এই সমাজের কিছু মুখোশধারী লোক দেখানো ভদ্রবেশি অভদ্রলোক। তারাই আবার সমাজের চোখে ধূলো দিয়ে সমাজ স্বীকৃত (অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত) সমাজ সেবক নামে বিবেচিত।

মানুষে মানুষে হিংস্রতা, শত্রুতা, ক্ষিপ্রতা, আত্ম অহংকার, মিথ্যা বলা বর্জন, অসৎ পথে জীবিকা নির্বাহ ও জীবন পরিচালনা এগুলো দমন করে চলতে পারে এমন লোকের সন্ধান পাওয়া আজকের সমাজে ক্ষুবই দূরহ ব্যাপার। বর্তমান সমাজে ভালোর চেয়ে মন্দ লোকের ভার বেশী। উপকারের তুলনায় অপকার মাত্রায় লক্ষনিয়।

বর্তমান সমাজের কথায় বলি, আমাদের এ সমাজে কতজন ব্যক্তি আত্মীয়তার হক, গরিব-মিশকিনদের হক, সঠিক সুন্দর ভাবে পালন করছেন? “রক্তের সম্পর্ক আর আত্মার সম্পর্ক প্রায় বিলুপ্তির পথে, এখন একমাত্র স্বার্থের সম্পর্কই জমজমাট”। কতজন লোক দান-ক্ষয়রাত করছে, না তার চেয়ে বেশি লোক গ্রহণের প্রত্যাশা করছে? কতজন বোধগম্য সচললোক প্রতিদিন একটিও মিথ্যা কথা না বলে? সন্তানের বিয়েতে যৌতুক সামগ্রী দেওয়া ও নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে, কতজন সন্তান তার বাবা-মায়ের কথাতে বিয়ে করেছে এবং বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে যত্ন করছে। সুদ-ঘুষ দেওয়া অথবা নেওয়া থেকে বিরত আছে? এখন বেশির ভাগই দেখা যাচ্ছে- আত্মীয়তার সাথে রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। রক্তের সম্পর্ক নেই এমন বিনারা পরের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলছে। সেখানেও লাভের চেয়ে ক্ষতির মাত্রায় বেশি। এখানে আমার একটা প্রশ্ন রেখে যায়- আচ্ছা, যে ব্যক্তি রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে চলছে, আত্মীয়তার হক রক্ষা করতে পারছে না, সে ব্যক্তি বিনাস্বার্থে রক্তের সম্পর্কচুত্ব পরের সাথে সম্পর্কটা কত দিন টিকবে বলে মনে হয়? তবে হ্যাঁ! মানবধর্ম বা মানবসেবাই প্রকৃত ধর্ম, তবে রক্তের সম্পর্ক রক্ষা করে ছিন্ন করে নয়। রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে যে ধর্মই করি না কেন তা ভবিষতে কোন মঙ্গল সূচক কাজে আসবে বলে সন্দেহ।

একটি ছোট গল্প দিয়ে শেষ করবো- কেউ কী জানেন, কোন ছোট্ট শিশু পরস্পর যখন ঝগড়া করে তখন একজন শিশু কেন বেশী কাঁদে? এর কারণ আছে বৈকি, কারণ হচ্ছে দুটি শিশু যখন ঝগড়া করে, তখন ওদের মা’এসে যখন ঝগড়া ছাড়িয়ে দেয়। তখন একজন শিশু বেশী কাঁদে, কেননা যাকে সে মারধর করছিলো সেই মারটা মনের মতো হয়নি। অর্থাৎ আরও একটু বেশী মারতে পারলে ক্রন্দন করা শিশুটি বেশ আনন্দ পেত। অথচ যে শিশুটি মার খেয়েছে সে তেমন কাঁদছে না, সেই শিশুটি এক পর্যায় নীরব দর্শক। আপনার আমার আশেপাশে এমন কিছু শত্রু আছে যারা আত্মীয়তা নিবিড় সম্পর্কের কথা বলবে, ভালোভালো মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে আপনার কাছে অপরের মিথ্যাচার করবে। আবার অপরের কাছে আপনার মিথ্যাচার করবে, অন্যায়ও করবে আবার আপনাকেই অপবাদ দিয়ে দোষারোপ করবে। আবার দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দিয়ে দু’জনের নিকট ভালো সেজে থাকবে।

সেই শত্রুর হয়তো এটা জানা নেই যে শিশুরা যখন বালি দিয়ে খেলা করে, যখন একজন আরেকজনের গায়ে বালি ছুড়োছুড়ি করে, বেলাশেষে কোনো শিশু কোনো সঙ্গী না পেয়ে নিজের গায়ে, মাথায় নিজেই বালি ছুড়তে থাকে। সত্য কখনো চাপা রইনা একদিন সমাজে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবেই পৃথিবীতে শত্রুতা সৃষ্টি কারী দালালদের একদিন এমনি হবে। সমাজে কলঙ্কিত, মিথ্যাচার, দালালরা শক্তিধর সেজে দূর্বল মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করতে করতে অবশেষে নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারবে না। তখন নিজের অস্তিত্ব নিজেই বিলিন করতে থাকবে।

মেহেরপুর কাথুলী রোড walton শোরুমে, ওয়ালটনের সকল পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হয়। ওয়ালটন ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, সহ অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগের ঠিকানা, মেহেরপুর কাথুলি রোড, মোবাইল নাম্বার ০১৪০৩২৫৭৭৭০- ০১৩০৫৪২৪৬২০

০ মন্তব্য
0

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন