Home » পাগলিও এখন নবজাতকের মা; কে তার বাবা?

পাগলিও এখন নবজাতকের মা; কে তার বাবা?

কর্তৃক Md. Sohel Rana
79 ভিউস

পাগলিও এখন নবজাতকের মা; কে তার বাবা?
-এম. সোহেল রানা, মেহেরপুর।

কাকা..কাকা.. আমাদের স্কুলের পড়ে থাকা ভাঙা ঘরটাতে যে পাগলি থাকতো না? গত কালকে তার একটা ফুটফুটে সুন্দর ছেলে সন্তান হয়েছে।
-কি যে, বলিস না বলিস!
– হ্যাঁ কাকা ঠিকই বলছি! আমি গিয়েছিলাম, সবাই তার সমালোচনা করছে বলছে ফুটফুটে সুন্দর ছেলেটার বাবা কে হলো? নিশ্চয় ফুটফুটে সুন্দর ছেলেটার বাবাও ফুটফুটে সুন্দর ছিলো! কে জানে কে তার বাবা! কি হবে তার পরিচয়!
– যা! (দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে) জগৎটা কেমন জানি হয়ে গেছে! এই দেশে হায়েনার দল মানুষরূপি খবিশচরিত্রের জানোয়ারদের হাত থেকে পাগলীদের পর্যন্ত ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই। কি হয়ে গেলো দেশটা! ভবিষ্যতে এখনো মানুষের চরিত্র কোন তলানিতে ঠেকবে জানিনা!
-সবাই খালি হাতে পাগলির ছেলে দেখতে গেছে! যায় কাকা রাজনৈতিক নেতা হেড স্যারকে বলি তিনি এ ঘটনা জানেন কি না!
কথাটা বলতে বলতে ছেলেটি দৌঁড়ে চলে গেল।
ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই প্রধান মাস্টার মশাই গায়ে গোণ্ডারের চমড়া বুঝি চামড়া মোটা তার ঘরের বারান্দা থেকে শুনতে পেলো, রাজনীতি করে তো; স্কুলে না গিয়েই নেতার অফিস আর বাড়ি পাহারা করে মাসে মাসে স্কুলের বেতন তুলে খায়। কোন শিক্ষা যে তার মধ্যে বিদ্যমান! কিছু নীতিমান সহকারি শিক্ষকসহ যে কেউ স্কুলের কথা বলতে গেলে বলে-
-অফিসে অনেক কাজ থাকে।
প্রতিদিন স্কুল আর ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কি মহাযজ্ঞ করতে যায় নেতাদের অফিসে মানুষ সব বোঝে।
মনে হচ্ছে যেন ক্ষমতাসীন নেতার ক্ষমতার বলে স্কুলের প্রতি তার কোন দায়বদ্ধতাই নেই। কিন্তু এটা মনে রাখা প্রয়োজন ক্ষমতা দম্ভ আর রুপের বড়ায় চিরদিনের না! সময় একদিন দিক বদলাবে রাজনীতি করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে রাজনীতি করা উচিৎ। এমন মহান পেশায় থেকে যে শিক্ষক ধ্বজাধারি রাজনৈতিক দলের নেতার ক্ষমতা ব্যবহার করে চলে আদৌও কি সে আদর্শ শিক্ষক না নীতিহারা জ্ঞানহীন শিক্ষালঘু নির্বোধ প্রতারক! এমন মহান পেশায় থেকে নিজে আত্মকেন্দ্রিক লোভী হয়ে অন্য আরোও সৎ শিক্ষকদের মহান পেশাকে কলঙ্কের কালিমা লাগানো ঠিক না। একজন আদর্শবান শিক্ষকের চিন্তা চেতনা কি থাকা উচিৎ! আদর্শ শিক্ষকের জ্ঞান বিজ্ঞান দর্শন থাকবে মহাসাগরের ন্যায় তিনি সকল ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব, ছোট-বড়, দল-মত নির্বিশেষে সকলের মাথার তাজ হয়ে থাকবে এটাই বাস্তবতা। একজন আদর্শবান শিক্ষকের কোন পক্ষপাতিত্ব থাকেনা। পাগলির ছেলে হয়েছে খবরটা ভিত্তিহীন মনে করে কথাটা কর্ণপাত না করে তার গুরুত্ব না দিয়ে হঠাৎ তার বারান্দায় পড়ে থাকা একটা আঞ্চলিক পেপার মাস্টার মশাই চিন্তা করছে আমিতো পেপার কখনো (কেনা) কিনিনা এখানে পেপার কে রেখে গেল? হেড লাইন অর্থাৎ পেপারের শিরোনামে চোখ বুলাতেই মাস্টার মশাইয়ের চোখে পড়ে একটি শিরোনাম। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মত একটি শিরোনাম তাতে লেখা ছিলো- “পাগলিও এখন নবজাতকের মা; কে তার বাবা?আকাশ যেন মাথায় ভেঙে পড়ল। এই ঘটনা ঘটেছে আমাদের গ্রামে আমার স্কুলে অথচ আমিই টের পাইনি! তাও আবার কারও রেখে যাওয়া পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম। নিউজটা পড়ে নীতিভ্রষ্ট শিক্ষক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। স্কুলে যাবার জন্য ছুটোছুটি করতে লাগলো।
বেশ কিছু দিন পর উপলব্ধি করলাম এলাকায় সব গুঞ্জন নিরব হয়ে গেছে। কারণ কি?
কারণ- সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন প্রকারের ভাতা প্রদানের নিবন্ধন চলছে। যেমন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিশু ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা (বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন) ইত্যাদি। আমার নিজের একটা ছোট্ট কম্পিউটারের দোকান আছে। নিবন্ধনের কাজগুলো আমার দোকান থেকে অনেকেই করেছিল। আমার কম্পিউটার দোকান থেকে আরো অনেক কাজ করা হইত, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি),
নিবন্ধনের কাজগুলো করতে করতে একটা বিষয় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ঐ পাগলির জন্য ও পাগলির ছেলের জন্য ভাতা পাওয়ার কোন প্রকারের অপশন চালু নেই সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সেই সার্ভারে। কষ্ট পেলাম বহুত কষ্ট! কি পরিমাণ মিথ্যা আর টাকার লোভে লিপ্ত হয়ে জীবন পরিচালনা করছি ভবিষৎ-এর চিন্তা ভাবনা না করে। টাকার লোভে নীতিভ্রষ্ট। ভাতার ক্ষেত্রেও কত দালালি কাজ করেছে আর্থিক সামর্থ থাকা সত্ত্বেও শুধু নিজের লোক থাকাতে নিজের কোন ছেলে-মেয়ে সন্তান না হইলেও বা না থাকলেও নিঃসন্তান মহিলা (বাজা) হয়েও অন্যের সন্তান কোলে নিয়ে ছবি তুলে শিশু ভাতা পাবার আশাতে নিবন্ধন করেছে। অতি লজ্জাকর বিষয়- আবার অনেক প্রকৃত ভাতা প্রাপ্ত যোগ্য ব্যক্তি হয়েও ভাতার কার্ড করতে পারছেনা রাজনৈতিক দলের দালাল প্রতিনিধিদের সমর্থণ না পেয়ে নিজ জনবল না থাকার কারণে। কি পরিমাণ দালালেরা মিথ্যা পথ অবলম্বন করেছে শুধুমাত্র কিছু টাকা পাবার লোভে। মানুষ শুধুই টাকার পিছনে মরিয়া হয়ে ছুটে চলেছে সঠিক-বেঠিক পথের বিচার-আচার না করে। বেশির ভাগ মানুষ বেপথে টাকা উপার্জন ও গ্রহণ করে সেই অর্থের রিজিক ভক্ষণ করে সমাজে অনেকে লোক দেখানো দানও করে। দান গ্রহণ করার সময় দানশীল ব্যক্তিকে বলতে শুনি নাই যে, ভাই বা চাচা আপনি যা দান করছেন তা বৈধ পথে উপার্জনের তো! এই সত্য কথাটা বলার সক্ষমতা সমাজে কত জনের আছে? অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দানের ফলে বিবেক বুদ্ধি দ্বারা সঠিক-বেঠিক, সত্য-মিথ্যার বিচার করার অলৌকিক শক্তি হারিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দিকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা তারা বাংলাই পড়তে ও লিখতে পারেনা বা জানেনা। বাবা- মা, অভিভাবকেরা সেই খোঁজ রাখেনা আমার সন্তান যে স্কুলে বা প্রাইভেটে পড়তে যায় আদৌও কিছু জানে বা শিখছে কিনা! ছেলে-মেয়ের স্কুল থেকে টাকা কবে কখন পাবে বা এখনো আসছে না কেন এগুলোর ঠিকই নিয়োমিত খোঁজ-খবর নিয়ে থাকে। আবার নগদ বা বিকাশ যে সিম কার্ডে একাউন্ট খোলা আছে সেই সিমের কোন খোঁজই থাকে না শুধু মাত্র যে মাসে বা সময় টাকা আসে তখন টাকার গন্ধে হুস হয়। যেখানে বিকাশ বা নগদের একাউন্ট খোলা হয়েছে সেই এজেন্টের দোকানদারকে গিয়ে বলে আপনার এখানেই একাউন্ট খোলা হয়েছিল আমার পিনটা আপনার মনে নেই? কি নির্বোধ আজব মানুষ একাউন্ট খোলার পর পরই পিন লিখে ও বলে দেওয়া হয় ডকুমেন্ট হাতে দিয়ে নিজ সংরক্ষণে যত্ন করে রাখবে যখনই টাকা আসবে এই পিন লাগবে। কারো সাথে এই পিন বা ভেরিফাইড পিন আসলে শেয়ার করা যাবে না। মানুষ এতোই লোভী অধম হয়েছে টাকার পিছে নিরবধি ছুটে চলেছে সেটা হোকনা বৈধ বা অবৈধ পথে। টাকা পাবার লোভে স্বাভাবিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। টাকার লোভ এমন লোভ টাকাতেই মানুষের মন মুহুর্তেই পরিবর্তন করে দিতে পারে, সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। টাকার লোভ করতে গিয়ে বহু মানুষ প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্বও হয়েছে এখনো হচ্ছে ভবিষ্যতেও হবে। লোভে পাপ পাপে মৃত্যু। কথাটা ভাবতে ভাবতেই….!

কাকা… কাকা আমাদের স্কুলের ভাঙা ঘরটাতে পাগলির যে ছেলে হয়েছিলো না! সেই ছেলেটাকে পাশের গ্রামে একজন নিঃসন্তান দাম্পত্য দত্তক নিয়ে ছিলো। শুনেছি হঠাৎ কিছু দিন থেকে ছেলেটার ডাইরিয়া হয়েছিল আজ সেই ছেলেটা মারা গেছে।
-কি বলিস!
-হ্যাঁ, ঠিকই বলছি। পারলে গিয়ে দেখতে পারেন। (বলতে বলতে দৌঁড়ে চলে যায় ছেলেটি)
-আলহামদুলিল্লাহ! (মনে মনে বলে) মৃত্যুর খবর মিথ্যে হয় না। যদি পাগলির ছেলেটা সত্যিই মারা যায় তবে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোই হয়েছে। কলঙ্কের জীবন নিয়ে ইহকালে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু হয়ে ছেলেটা বেঁচে গেছে। নিশ্চয়ই নবজাতক শিশুটা পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হয়ে পাপ করেনি। পাপ করেছে সে যার ঔরশে নবজাতকের পৃথিবীতে আগমন হয়েছিল তথা জন্ম হয়েছিল, সেই নরপিশাচ পাপিষ্ঠ খবিশরূপি খাবলিয়ে খাবলিয়ে খাওয়া হারামখোর রক্তপিপাসু জানোয়ারটা। এই ধরণের বহু হারামখোর জানোয়ার পৃথিবীতে বিচরণ করছে অল্প কিছু জানোয়ারের জন্য পৃথিবীর বুকে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এর দায় একদিন সমাজ ও দেশের উপরে প্রভাব ফেলবে। যে সমাজ বা দেশে একজন পাগলিও তার ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পায়না সেই সমাজ ও দেশে ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মানুষের রূচি বোধ আজ কি পরিমাণ নিম্নে এসে পৌঁছে গেছে। লোভ লালসায় মানুষ নিজ স্বার্থে আত্মকেন্দ্রীভূত হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ভবিষ্যতে মানুষের চরিত্র ভয়ংকর থেকে আরোও কঠিণ ভয়ংকরে রূপ ধারণ করবে। ছেলে-মেয়ে শুনবেনা তার বাবা-মার কথা, স্ত্রী শুনবেনা তার স্বামীর কথা, ভাই শুনবেনা ভাইয়ের কথা। পৈত্রিক সম্পদ ভাগাভাগি আর ওয়ারিশ ফাঁকি দিয়ে একইঞ্চি না ছাড়াছাড়ি, জমির আইল কাটা-কাটি বেড়ে যাবে মাদকাসক্ত, জুয়া, সুদ-ঘুষ আর জিনার মত অবৈধ পথ বেছে নেবে। পারিবারিক ও সমাজ থেকে শিক্ষা-দীক্ষা সততা সভ্যতা বড়দের প্রতি সম্মান ও মূল্য বোধ ওঠে গিয়ে, সত্য কথা বলে ন্যায় বিচার করার মত একটা মানুষ থাকবে না। বর্তমানে এটাই হচ্ছে হবে। পরজনমে যার কঠিণ শাস্তি আমাদের প্রত্যেককেই নিতে হবে নিজ নিজ হাতের কামাইয়ের কারণে।

রচনাকাল- ২৫জুন-২০২৫খ্রি.

মেহেরপুর কাথুলী রোড walton শোরুমে, ওয়ালটনের সকল পণ্য সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হয়। ওয়ালটন ফ্রিজ, ফ্যান, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, সহ অনেক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যোগাযোগের ঠিকানা, মেহেরপুর কাথুলি রোড, মোবাইল নাম্বার ০১৪০৩২৫৭৭৭০- ০১৩০৫৪২৪৬২০

০ মন্তব্য
0

রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন