
মেহেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক
-এম. সোহেল রানা, মেহেরপুর: মেহেরপুর সদর উপজেলার কালাচাঁদপুরের মাঠে চলতি মৌসুমে তৈল জাতীয় ফসল সরিষা ও রাইয়ের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষীরা। দিগন্তজোড়া মাঠে সরিষা আর রাইয়ের ফুলের হলুদের সমারোহের শেষে ফসলের ভালো ফলনের কারণে দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু জমিতে ফলের ভারে সরিষা আর রাইয়ের গাছ এখন নুয়ে পড়েছে। ভালো ফলন ও দামের আশায় কৃষক বুক ভরা আশা আর স্বপ্ন বুনছেন। সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটে ওঠেছে মুক্তা হাসির ঝিলিক।
[caption id="attachment_7483" align="alignleft" width="300"]
রাইয়ের জমির চিত্র একাংশ[/caption]
মেহেরপুর জেলার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরিষা চাষ খুবই লাভজনক একটা আবাদ। অতি অল্প সময়ে আর স্বল্প পুঁজিতে দুই আবাদের মাঝে অর্থাৎ একটি ফসল তুলে অন্য একটি ফসল চাষের অপেক্ষায় বীজ/চারা তৈরির বিরতির ফাঁকে পতিত/ফেলে রাখা জমিতে কোন আবাদের সময় নষ্ট না করেই সরিষা/ রাইয়ের চাষ করে কৃষকরা লাভবান হন। তাই অধিকাংশ কৃষক এখন সরিষা বা রাই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। দুটি ফসলের মাঝে কৃষকরা সরিষা চাষের ফলনকে বোনাস হিসেবে দেখছেন। একসময় কৃষকরা আমন ধান কাটার পর জমি পতিত ফেলে রাখত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে। আমন ধান কাটার পর জমিতে সরিষা বা রাইয়ের বীজ বুনে দেয়া হয় যা মাত্র ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল কৃষক ঘরে তুলতে পারেন। এক বিঘা (৩৩শতাংশ) জমিতে সরিষা আবাদে বা ফসল ফলাতে খরচ হয় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। যদি সঠিক ভাবে পরিচর্চা করা যায় তাহলে প্রতি বিঘায় (৩৩শতাংশে) ফলন হয় ৫-৬ মণ সরিষা।
[caption id="attachment_7484" align="alignright" width="300"]
সরিষা জমির একাংশ[/caption]
সরিষা ও রাই চাষকারিদের মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার কালাচাঁদপুরের কৃষক মতলেব মোল্লা, আনারুল, জমির উদ্দিন, জয়নাল, আন্নাচ, আবেদ জানান, আমন ধান কাটার পর দুই-এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এই সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের তেল ও সার কেনার টাকা জোগাড় হয়ে যাবে। সদর উপজেলার কৃষকেরা আরোও বলেন, দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আশা করছি ১হাজার ৮শত টাকা থেকে ২হাজার টাকায় প্রতিমণ সরিষা বিক্রি করতে পারব। সরিষা মূলত একটি তেল জাতীয় ফসল। উপজেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের নিকট থেকে জানতে পারা যায়, স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষককে অধিক ফলন পেতে নানা ভাবে সরকারি,বেসরকারি, বীজ কোম্পানি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও উন্নত বীজ প্রদান করা হয়ে থাকে। এছাড়াও কৃষি প্রণোদনায় সার ও বীজ সঠিক সময়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তা অনেকেই পেয়েছে ফলে কৃষকদের কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না ঘটায় আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষক এবার সরিষা/ রাইয়ের ভালো ফলন পাবে আশা করছে।